You are currently viewing তওবা তো করতেই চাই কিন্তু বুক রিভিউ

তওবা তো করতেই চাই কিন্তু বুক রিভিউ

“তওবা তো করতেই চাই কিন্তু” বই রিভিউ এর শুরুতে আমরা বইয়ের কাভার নিয়ে কথা বলবো।  বইয়ের কাভার দেখলে আপনি অনুমান করতে পারবেন বইটা আসলে তওবা নিয়ে যা লিখাতে বুঝাযাইতেছে। 

“কিন্তু” বা “BUT” দিয়ে আমাদের বইটা পড়ার জন্য একটু হলেও আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। আর বইটা যে ইলামিক এবং আত্মাসুধীর সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখেনা। এর ঠিক একটু নিচে লেখলের নাম দেওয়া হয়েছে – শায়খে মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ। আর একটা বাংলা অনুবাদ করেছেন – মাওলানা মাহমুদ হাসান কাসেমি। 

লেখক/ সম্পাদকের কথাঃ  

বইটার শুরুতেই ধারুন কিছু কথা আছে!

তওবাকারীদের আল্লাহ্‌ তালা ভালোবাসেন। যে ব্যক্তি যত বেশি তওবা করবে, সে তত বেশি আল্লাহ্‌ তালার প্রিয় হবে। এই তওবা ইসলামি শরিয়তে খুব সহজ একটি বিষয়। এর জন্য না ওজুর প্রয়োজন হয় না। গোসলের প্রয়োজন হয় না। কেবলামুখী হওয়ার প্রয়োজন হয় না।কিন্তু এই তওবা আমরা করতে পারি না! কেন করতে পারি না, সেই উত্তরই দেওয়া হয়েছে এই বইয়ে। 

বইয়ের ১০ নম্বর পৃস্টাতে সুন্দর কিছু কথা যা সূচিপত্রের ১ম – গুনাহকে ছোট মনে করার ক্ষতিঃ 

ওলামায়ে আহলে হক বলেন, সগিরাহ গুনাহের ক্ষেত্রে – লজ্জার কমটি উদাসীনতা, খেয়ালিপনা, ছোট মনে করা সবই মহান আল্লাহ্‌ তালার ভয়কে কমিয়ে দেয়। এবং এগুলো একপর্যায়ে কবিরাহ গুনাহে রূপান্তর হয়। এ কারণেই ওলামায়ে ক্যারাম বলেন, রবং হয়ে যায় গুনাহ বার বার করাতে সেটা আর সগিরাহ থাকে না; বরং হয়ে যায় কবিরাহ। ঠিক তেমনিভাবে কবিরা গুনাহের ওপর যদি ইস্তিগফার করা হয়, তাহলে সেটা আর কবিরাহ থাকে না বরং হয়ে যায় সগিরাহ।  

সূচিপত্রের ২য়টা যানা দরকারঃ  তওবার শর্তাবলি ও তওবার পূর্ণতা – 

তওবার কারার কিছু শর্ত আছেঃ

১। ছেড়ে দিতে হবে সব গুনাহ।

২। এ পর্যন্ত করা সব গুনাহের জন্য হতে হবে লজ্জিত।

৩। ভবিষ্যৎ জীবনের আর গুনাহ না করার জন্য হতে হবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

৪। যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁর থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

১৪ নম্বর পৃস্টা শেষের দিকেঃ   

কিতাবদ্বয়ে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা বর্ণনা করা হয়েছেঃ 

১। ইলমে দীন থেকে বঞ্চিত হওয়া।

২। ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জীবনযাপন করা।

৩। কর্মে অনীহাভাব সৃস্টি হওয়া।

৪। স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যাওয়া।

৫। মান্য করার ক্ষমতা লোভ পাওয়া।

৬। বরকত উঠে যাওয়া।

৭। সামর্থ্য কমে যাওয়া।

৮। বক্ষ সংকুচিত হওয়া।

৯। মন্দাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া।

১০। গুনাহের দিকে ধীরে ধীরে আরও বেশি অগ্রসর হওয়া।

আর তাদের অবস্থা আল্লাহ্‌র দরবারে কেমন হয় তা জানত পারবেনঃ ১৫ পৃস্টাতে।    

গুনাহ করার পর তওবা করলাম আল্লাহ্‌কে হাজির নাজির করে, আর তারপর যুদি আবারো গুনাহ করি তাহলে কি করবোঃ

আপনি বইয়ের ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠার এই অধ্যায়টা পড়বেনঃ গুনাহ করার পর কী করি আমি?

আমি কয়েকটা বিষয় বাদ দিয়ে বলছিঃ

১। দাঁড়িয়ে দুরাকাত সলাত আদায় করতে হবে।

২। একাগ্রতাঁর সঙ্গে মনোনিবেশকে রাখতে হবে এবং সেদিকে পুরোপুরিভাবে একনিষ্ঠ চিত্তে মনোযোগী থাকতে হবে।

৩। উদাসীন থাকা যাবে না।

৪। এমতাবস্থায় মনে মনে ভিন্ন কিছু ভাবা যাবে না।

৫। এই অবস্থায় জিকির ও একাগ্রতায় থাকা।

৬। সর্বশেষ আল্লাহতালার দরবারে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

আর যে ব্যক্তি তওবা করবে তাঁর জন্য ফলাফল কি হবেঃ

১। ওই ব্যক্তি অতীত সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

২। জান্নাত তাঁর জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।

আরো অনেক বিষয় আছে এই বইতে।

আমার কাছে বইয়ের প্রশ্ন উত্তর অধ্যায়টা  খুব ভালো লেগেছে। আমার মনে হয় সবারি ভালো লাগবে। এখানে ২৩টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।  

হাদিস আর কুরআনের নেওয়ায় গুরুত্বপূণ আয়াতঃ 

১। হে আদমসন্তান! তুমি যখন আমাকে আহ্বান করবে এবং আমার ওপর ভরসা রাখবে, তখন তোমার যত গুনাহই অতীত হয়েছে, সব গুনাহই আমি ক্ষমা করে দেব। এবং এর প্রতি আমি কোনো ভ্রূক্ষেপই করব না। হে আদমসন্তান! যদি তোমার গুনাহ উচ্চতায় আকাশসমও পৌঁছে যায়, এরপরও যদি তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তথাপি আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং এর প্রতিও কোনো ভ্রূক্ষেপ করব না আমি। হে আদমবংশ! যদি তুমি জগৎভরও গুনাহ নিয়ে আমার দরবারে উপস্থিত হও। আর আমি তোমাকে পাই এই অবস্থায় যে, তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করোনি, তাহলে আমি তোমার নিকট উপস্থিত হব জগৎভর ক্ষমা নিয়ে। [ তিরমিজিঃ বাবু ফি ফজলিত তওবাটি; মুসনাদে আহমদঃ খ। ৩৫ পৃ ২৮৯] 

২। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা পরজগতে বিশ্বাস করে না, তারা যেন তোমাকে দুর্বল করে না দেয়। [ সূরাঃ আর রুম; আয়াতঃ ৬০] 

৩। এরপর রসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বলেনঃ হে মারসাদ! ব্যভিচারীই একমাত্র বিবাহ করবে ব্যভিচারিণী বা শিরককারিণীকে এবং ব্যভিচারিণীই বিবাহ করবে শুধু ব্যভিচারী বা শিরককারীকে। সুতরাং তুমি তাকে [ ‘ ইনাক’ কে \ বিবাহ করো না। [ সিনানে তিরমিজিঃ ৩১৭৭] 

বলে নেওয়া দরকার এর আগে একটা ছোট ঘটনা আছে যা আপনি পাবেন ৫১ – ৫৩ পর্যন্ত ব্যাখ্যা কোরআনের আয়াত এবং  পরে যা রসুলুল্লাহ (সাঃ) ব্যাখ্যা করলেন।      

আমার মতামতঃ আসলে আমরা জানি অনেক কিছু কিন্তু মানি না কিছু! আমরা বলে থাকি আমি যে এতো দোয়া করি করি তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না কেন।  এঁর কারণটা হল আমরা তো এতো গুনাহ করেছি যে তাঁর জন্য দোয়া কবুল হবার রাস্তা বদ্ধ করা দিয়েছে। আর দোয়া কবুলের জন্য দরকার খাস দিলে তওবা, তাছাড়া দোয়া কবুল হবেনা।

আমাদের আরেকটা বড় সমস্যা হল গুনাকে গুনা না মনে করা। চাই সেটা ছোট কিংবা বড় হোক গুনাকে গুনা মনে করতে হবে। এই ছোট ছোট গুনা থেকেই আমরা বড় গুনাতে এগিয়ে যাই। এই ছোট গুনাই সাহায্য করে বড় গুনাহ করতে আর একটা সময় দেখা যায় যে আমরা আর গুনাকে গুনাই মনে করতেছি না।

এই বিষয়েও বইটাতে খুব সুন্দর করে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

আপনি বইটা কিনতে পারেন, আশা করি বইটা পরে আপনার উপকিত হবেন,  যা  দুনিয়া  এবং অখিরাতেও কাজে আসবে।

Bangla Amader

Bangla Amader talks about all about Bangla Books and around its like Bangla Book review, Summary, Audiobook, Quotes, etc.

Leave a Reply