You are currently viewing সালাউদ্দিন আইয়ুবী বুক রিভিউ

সালাউদ্দিন আইয়ুবী বুক রিভিউ

বর্তমান বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর কাফের – মুশরিক জোটের সম্মিলিত আগ্রাসন, পবিত্র ভূমি জেরুজালেম বে – দখল আর শামের বিশৃশখল পরিস্থিতিকে আমরা ইতিহাসের মহাবীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর (রহঃ) সময়ের সাথে কিছুটা মেলাতে পারি। 

দুনিয়া আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অন্ধ মুসলিম শাসকবর্গ যখন উম্মাহকে ভুলে গিয়েছিলো, একজন সালাউদ্দিন সেদিন একাই একটি উম্মাহ হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। 

মিশর হয়ে শামে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন, জেরুজালেমকে কাফেরদের হাতে থেকে পবিত্র করেছেন, আর সমস্ত বিশ্বাসীর কাছে সাহসিকতা, বিচক্ষণতা আর মহানুভবতার যে নজির রেখে গেছেন, সেটা মুসলিম বিশ্ব তো বটেই; অমুসলিম ইতিহাসবিদরাও গুরুত্বের সাথে স্মরণ রেখেছেন।

বইয়ের নামঃ সালাহউদ্দিন আইয়ুবী  

লেখকঃ শাইখ আব্দুল্লাহ নাসিহ উলওয়ান ( রহঃ)  

অনুবাদঃ আশিক আরমান নিলয় 

প্রকাশকঃ সমর্পন প্রকাশন 

পৃষ্ঠাঃ ২০৩

সালাউদ্দিন আইয়ুবী বুক রিভিউ 

কিছু কথা যা দাগ কাটে মনেঃ হে যুবসমাজ! ভবিষ্যতে একদিন না একদিন মুসলিমরা অবশ্যই বিজয়ী হয়ে ইসলামের গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। এটি নবীজীর (সাঃ) হাদীস থেকে প্রমাণিতঃ  

” তোমাদের মধ্যে নবুয়ত থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন, তারপর আল্লাহ্‌ তাঁর সমাপ্তি ঘটাবেন। তারপর প্রতিস্টিত হবে নবুয়তের আদলে খিলাফত। তা আমাদের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন, অতঃপর তিনি তারও সমাপ্তি ঘটাবেন। তারপর আসবে যন্তণদায়ক বংশের শাসন, তা থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করবেন। এক সময় আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় এরও আবসান ঘটবে। তারপর প্রতিষ্টিত হবে জুলুমের শাসক এবং তা তোমাদের উপর থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করবেন। তারপর তিনি তা আপসারণ করবেন। তারপর আবার ফিরে আসবে নবুয়তের আদলে খিলাফত। তখন ইসলামের শিক্ষা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে জমিন ও আসমানবাসীরা খুশি হবে। তখন আসমান থেকে অবারিত বৃষ্টি ঝরবে এবং জমিন থেকে সবরকম উদ্ভিদ জন্মাবে।”   

এই বইটে মোট বারোটা অধ্যায় আছে যেখানে তিনি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এর জীবনী বলা হয়েছে এবং কিভাবে তিনি হয় করেছেন জেরুজালেম। আর এখন কেন মুসলিমটা মার খাচ্ছে সংখ্যায় বেশি হবার পরেও। এই বইটাকে লেখক তিনভাবে ভাগ করেছেন। আর তা হলঃ 

প্রথমত সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর একেবারে শুরু থেকে শেষ সবকিছুই এখানে এসেছে, তবে এটা বলা যাবে না যে স্ব বলা হয়েছে। 

দ্বিতীয়ত অংশে, কেন সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জয়লাভ কয়েছেন, তাঁর শক্তির জায়গাটা কোথায় ছিলো, তাঁর কৌশল কেন কাজ করেছে; পক্ষান্তরে এত বিশাল জায়গাটা কোথায় ছিলো, তাঁর কৌশল কেন কাজ করেছে; পক্ষান্তরে এর বিশাল মুসলিম উম্মাহ আজ কেন এভাবে মার খাচ্ছে, আমরা কেন পেরে উঠছি না, আমাদের দুর্বলতা কোথায়। 

তৃতীয়ত, আগেই জেরুজালেম দখল করে রাখা ইসরাইয়েলের সাথে আরবদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সেসব ঘটনার আলোকে কীভাবে জিহাদ আরব্য জাতীয়তাবাদী, বিভিন্ন আদর্শ আর স্লোগানের ভিড়ে হারিয়ে গেছে, কিভাবে আমাদের ইসলামী চেতনা পরিবর্তিত হয়ে আবর্জনার রূপ নিয়েছে।    

সংক্ষেপে ১ম অংশের কিছু কথাঃ 

১ম অধ্যায়ঃ সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর পরিবার ও বেড়ে ওঠাঃ 

সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর জন্ম এক সম্ভ্রান্ত কুর্দি পরিবারে। এই পরিবারটি মিশর ও শাম ( বর্তমান সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন) শাসন করতো।  সুলতান ইউসুফ সালাহউদ্দিনের জন্ম হয় ৫২৩ হিজরি মোতাবেক ১১৩৭ খ্রিস্টাব্দে। বাগদাদের কাছাকাছি তিকরিত নামে সুপ্রাচীন গ্রামের এক দূর্গে তাঁর জন্ম। 

তাঁর জন্মের পরে তাঁর বাবা (নাজমুদ্দীন আইয়ুব ইবনু শাযি) তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। 

ঘটনা ছিল এমনঃ 

তাঁর বাবা ছিলেন তিকরিত দূর্গের সেনাপতি এবং তাঁর বাবার ভাই আসাদুদ্দীনকে তাঁর সহকারী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে দুই ভাই মিলে আজারবাইজানের দেউইন গ্রাম থেকে ইরাকে চলে আসেন। 

তাঁরা দুই ভাই ছিলেন রাওয়াদিয়ান কুর্দি। আর তাঁরা কাজ করতে পুলিশ বাহিনীর তিকরিতে আসেন। সেই দূর্গের এক রক্ষী একজন নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিভারের অপবাদ দেয়। সেই নারী শিরকুহ’র কাছে অবিযোগ করলে তিনি রক্ষীকে হত্যা করেন। 

এখন হত্যার অপরাদে শিরকুহকে কি বহিষ্কার করা হবে নাকি ছেড়ে দেওয়া হবে এ নিয়ে মিজাহিদ বাহরুয দ্বিধায় পড়ে যান। পরে ওই রক্ষীর পরিবার প্রতিশোধ নিত্যে পারে এই ভয়ে তিনি নাজমুদ্দীন ও শিরকুহ উভয়কেই বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাদের রাতের বেলায় পালিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। 

ঠিক এই বহিস্কার এর দীনিই তাঁর স্ত্রী সালাউদ্দিনকে জন্ম দেন এবং সে রাতেই তারা সালাউদ্দিন আইয়ুবীকে নিয়ে মসুল বেরিয়ে পড়েন। 

নাজমুদ্দীন তাঁর এই সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে খুবি বিরক্ত ছিলেন। বের হওয়ার সময় তিনি ভাবছিলেন যে, বাচ্চাটির কান্নার কারণেই তাদের উপর দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে। তিনি বাচ্চাটাকে হত্যা করে ফেলতে পর্যন্ত চাইলেন। কেউ একজন সাবধান করে দিয়ে বললো, ” জনাব, সদ্যজাত শিশু তো কিছু বোঝেই না। তাঁর উপর আপনি বিরক্ত হচ্ছেন কেন? 

এটি তো আল্লাহরই নির্ধারিত তাকদির। কে জানে এই শিশুই হয়তো ভবিষ্যৎ বিখ্যাত বাদশাহ হয়ে উঠতে পারে। কাজেই কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলে এর যন্ত নিন।” এই কথায় নাজমুদ্দীর হুশ ফিরে এলো এবং তিনি তাওবাহ করে নিয়ে আল্লাহ্‌র নির্ধারিত কদরের উপর ধৈর্য ধারণ করলেন। 

সালাহউদ্দিন শৈশবের একটি অংশ কিংবা বলা যেতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ অংশটি কাটে বা’আলবেকে। তিনি সেখানে অশ্বচালনা শেখেন, জিহাদের প্রশিক্ষণ নেন এবং রাজনীতি অ ব্যবস্থাপার জ্ঞান রপ্ত করেন। 

১১৫৪ খ্রিস্টাব্দে ” ইমাদুদ্দীনের ছেলে নূরুদ্দীন যখন দামেস্কে দখল করেন, সাল্লাহউদ্দিন সেখানে জীবনের অসাধারণ কিছু সময় কাটান। তাঁর সাহসিকতা অ শৌর্য – বীর্য পূর্ণতা পায়। সামেস্কের শাসকের ছেলের মতোই তিনি মান – মর্যাদা পান। শান্ত – ভদ্র চরিত্র অ ধার্মিকতার জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তার অন্তরে ছিলো দুর্দমনীয় জজবা। 

Bangla Amader

Bangla Amader talks about all about Bangla Books and around its like Bangla Book review, Summary, Audiobook, Quotes, etc.

This Post Has 2 Comments

  1. syed abdul kafi

    সূরা কাসাস এর ৫ নং আয়াতের সাথে আপনার বঙ্গানুবাদের কোন মিল পাচ্ছি না।

    1. Bangla Amader

      দুঃখিত এইটা একটা হাদিস, আর সুরাহ আল – ক্কাসাস অর্থ ২৮ঃ ৫ হল এইটাঃ দেশে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিলো, আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার এবং তাদেরকে নেতা ও উত্তরাধিকারী করার ইচ্ছে করলাম।

      ধন্যবাদ! ভুলটা ধরিয়ে দেবার জন্য। আর এইটা ৫ নম্বর আয়াত না ২৮ঃ৫ নম্বর হবে ভাই।

Leave a Reply