You are currently viewing সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বুক রিভিউ

সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বুক রিভিউ

আমরা সবাই জানি আমাদের আর্দশ হল সাহাবীরাই, আর তাদের পথ অনুসরণ করেই আমরা দুনিয়া এবং আখিরাতে অর্জন করতে পারি অমূল সম্পদ জান্নাত। তাঁর থেকেও বড় হচ্ছে আমরা পেতে পারি আল্লাহ্‌কে। 

যুদি কেউ আল্লাহ্‌ পেতে চায় মনে প্রাণে তাহলে তাদের সাহাবীবের পথ অনুসরণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ তাদের সামনে খোলা নেই। 

হুযুর পাক ( সাঃ) নবুয়াত পাওয়ার পর একাই ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে, আর রাসুল ( সাঃ) দাওয়াতে একে একে সকল সাহাবী ইসলামের ছাড়াতলে আশা শুরু করে। 

ইতিহাসে অনেক সাহাবীরাই ইসললাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন কিছু সাবার ইসলামের গ্রহনের গল্পগুলো জানা যায় নি । কিন্তু কিছু গল্প পাওয়া গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। 

আপনি যুদি মনে প্রাণে সাহাবীদের সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনার অবশ্যই সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বইটা পড়া উচিত, তার আগে হয়তো আপনি আমার এইসাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বুক রিভিটা

বইয়ের নামঃ সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প

লেখকঃ মুহাম্মদ আদম আলই 

প্রকাশকঃ মাকতাবাতুল ফুরকান 

সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বুক রিভিউ 

বইটিতে মোট ১১টি সাহাবীদের গল্প বলা হইইয়েছে যে তারা কিভাবে আর কোন ঘটনার প্রক্ষাপটে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। প্রতি ঘটনাই ছিল চমৎকার কারণ এখানে স্পষ্ট আল্লাহ ইচ্ছা বোঝা যাচ্ছে। আমাদের এইটাও মনে রাখাতে হবে শুধু মাত্র আল্লাহ চেয়েছেন বলেই তারা ইসলামের এই নিরমল ছায়া তলে আসতে পেরেছিলেন। 

আমার এই বুক রিভিতে আপনি একটা সাহাবীর পুরু গল্পটাই তুলে ধরবো। আশা করি আপনি এর থেকে সবগুলো গল্প পড়ার জন্য উৎসাহ পাবেন। 

১১টি গল্পের মধ্যে থেকে ১ দেওয়া হল, কিন্তু তাঁর আগে ১১টি গল্প কোনো কোনো সাহাবীদের নিয়ে তাঁর তালিকা দেওয়া হলঃ

  • সালমান আল – ফারসী (রাঃ)
  • উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
  • আবু যর গিফার (রাঃ)
  • হামযা (রাঃ)
  • সাদ ইবনে মুআয (রাঃ) এবং উসাইদ ইবনে হুদাইর (রাঃ)
  • উমার ইবনে ওহাব (রা)
  • আবু সুফিয়ান ( রাঃ)
  • তুফাইল ইবনে আমর (রাঃ)
  • যিমাদ আযদী (রাঃ)
  • আবুল আস ইবনে রাবী (রাঃ)
  • সুহাইব ইবনে সিনান (রাঃ)

তুফাইল ইবনে আমর (রাঃ) এর ইমলাম গ্রহণ

ইয়েমেন―মক্কা থেকে সাতশ মাইল দূরে একটি দেশ। এ দেশের একটি শক্তিশালী গোত্রের নাম দাওস। এ গোত্রের সর্দার হচ্ছেন তুফাইল। জাহেলী যুগে বিবেক, ব্যক্তিত্ব কিংবা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা হতো না বললেই চলে। এর মধ্যেও কিছু মানুষ ব্যতিক্রম ছিলেন। তাদের তীক্ষ্নমেধা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও আত্মমর্যাদাবোধের সবাই প্রশংসা করত।

তাদের মধ্যে তুফাইল অন্যতম। তিনি ভাষা-পণ্ডিতও ছিলেন। কাব্য প্রতিভা ছিল তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। সর্দার হিসেবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতেন এবং সাহায্য করতেন। মেহমানদের.

তুফাইল ব্যবসায়ী ছিলেন। এজন্য প্রায়ই তার মক্কায় আসা-যাওয়া করতে হতো। একবার তিনি মক্কায় এলেন। এসেই নতুন এক বিপদে পড়লেন। এ বিপদ সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

ইতোমধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভ করেছেন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করছেন। আর মুশরিক কুরাইশরা চরমভাবে এর বিরোধিতা করছে। তুফাইল এমন এক সময় মক্কায় এসে পৌঁছেছেন্তযখন এ বিরোধ সবচেয়ে মারত্মক আকার ধারণ করেছে।

কুরাইশরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে গড়ে তুলেছে। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা-চৌকি স্থাপন করেছে। এসব চৌকির লোকজনের কাজ হচ্ছে, শহরের বাইরে থেকে আসা বণিকদের মুহাম্মাদ সম্পর্কে সতর্ক করা। তারা তুফাইলেরও গতিরোধ করে। তারা প্রথমে তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করে। সর্বোত্তম সম্ভাষণে স্বাগত জানায় এবং আতিথেয়তার প্রস্তাব দেয়।

তুফাইলের কাছে কুরাইশদের এ আচরণ অদ্ভুত লাগে। মক্কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জানা ছিল না। পরে নেতৃবৃন্দের কথায় পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তারা তাকে বলে, ‘হে তুফাইল, আপনি আমাদের শহরে এসেছেন—স্বাগত! আমাদের মধ্যে আপনি এই লোকটি―যে নিজেকে নবী বলে দাবি করে, সে আমাদের জীবন-সংসার কী এক মায়াজালে পেঁচিয়ে বড় কঠিন করে ফেলেছে। আমাদের ঐক্যের সকল রজ্জুকে সে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

সে আমাদের সাজানো-গোছানো সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। তার সকল কথাবার্তা জাদুর মতো। তা ছেলে ও পিতার মধ্যে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে, ভাই ও

বোনের মধ্যে বিরোধের প্রাচীর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমরা ভয় পাচ্ছি, আপনার নিজের ও কওমেরও না-জানি আমাদের দশা হয়! তাই সাবধান! আপনি তার সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। তার কোনো কথাও আপনি শুনতে যাবেন না।’

মক্কার কুরাইশদের এ প্রচেষ্টায় তুফাইল খুব অবাক হলেন। একটা মানুষকে নিয়ে এত হইচইয়ের কোনো কারণ খুঁজে পেলেন না। তবে লোকটি নিশ্চিতভাবেই খুব প্রভাবশালী। তা না হলে তাকে ঠেকাতে কুরাইশদের বড় বড় নেতারা এত মরিয়া হয়ে উঠত না। ব্যাপারটিকে এখন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। ভয়ও লাগছে। অহেতুক কোনো ঝামেলায় তিনি পড়তে চান না.

তুফাইল মক্কায় এসে কাবা তাওয়াফ করতেন। সেখানে রক্ষিত মূর্তিসমূহের পূজাও করতেন। এবারও এজন্য কাবা-চত্বরের দিকে রওনা হলেন। তবে রওনা হওয়ার আগে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করলেন। কানে ভালো করে তুলো ভরে নিলেন―যাতে কোনোভাবেই মুহাম্মাদের কথা কানে না আসে।

তিনি যা আশঙ্কা করেছিলেন, তা-ই হলো। কাবা-চত্বরে ঢুকতেই দূর থেকে মুহাম্মাদকে দেখতে পেলেন। তিনি কাবা-চত্বরের পাশে নামায পড়ছেন। তার নামায দেখেই তুফাইল আকৃষ্ট হয়ে গেলেন। এ তো তাদের নামাযের মতো নয়। তুফাইলের মনে ঝড় বয়ে গেল। তার আরও কাছে যেতে ইচ্ছে হলো। ইচ্ছেটাকে আটকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

তিনি এক পা, দু’পা করে এগিয়ে গেলেন। কানে তুলো দিয়ে বাইরের শব্দ একটু কমানো যায়; পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তুফাইলের কানে সেই তিলাওয়াত ভেসে আসে। তিনি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা শুনতে থাকেন। এতে তিনি ভীষণভাবে আলোড়িত হন।

তিনি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন : ‘আমি কেন আমার কান বন্ধ করে আছি? আমি আরবের এত বড় একজন বিচক্ষণ কবি! আর আমি কিনা বুঝব না কোনটি ভালো আর কোনটা মন্দ? তবে এই লোকটির কথা শুনতে সমস্যা কোথায়? যদি তার কথা ভালো হয় তাহলে তা গ্রহণ করব। আর যদি মন্দ হয় তবে দূরে ছুড়ে ফেলে দেব।’

বিষয়টি মোটেও মন্দ নয়। তিনি তা ছুঁড়ে দিতেও পারলেন না। বরং গভীর আকর্ষণে উজ্জীবিত হয়ে উঠলেন। রাসূল নামায শেষে বাড়ির পথ ধরেছেন। তুফাইল তাকে অনুসরণ করছেন।

অদ্ভুত ঘটনা। তুফাইল নিজেও আশ্চর্য না হয়ে পারলেন না। ঐশী নির্দেশ না হলে এরকম ঘটনা পৃথিবীতে ঘটে না। রাসূল ঘরে প্রবেশ করলেন। তার সঙ্গে তুফাইলও। এই প্রথম তিনি রাসূলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেলেন। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ, আপনার কাওমের লোকেরা আপনার সম্পর্কে আমাকে এসব কথা বলেছে। তারা আপনার সম্পর্কে এত ভয় দেখিয়েছে যে. আপনার কোনো কথা যাতে আমার কানে 

না ঢুকতে পারে, সেজন্য আমি কানে তুলো ভরে নিয়েছি। তা সত্ত্বেও আল্লাহ আপনার কিছু কথা না শুনিয়ে ছাড়লেন না। যা শুনেছি, ভালোই মনে হয়েছে। আপনি আমার নিকট ইসলামকে তুলে ধরুন।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব আনন্দিত হলেন। তিনি তার নিকট ইসলামের সৌন্দর্য বর্ণনা করলেন এবং তারপর কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেন। এটি ছিল সবচেয়ে চমৎকার ও শৈল্পিক অভিব্যক্তি—যা ইতিপূর্বে তুফাইল কখনো শোনেনি! ওই দিন পর্যন্ত এর সৌন্দর্যের কাছাকাছিও কিছু তিনি পাননি। তিনি সেখানেই আল্লাহর একত্ববাদের কথা ঘোষণা করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন।

আমার মতামতঃ বইটা আমার কাছে ভালো লেগেছে, কিন্তু অনেক ভুল ছিল বইয়ের মধ্যে। আর আমি আশা করেছিলাম বইটার মধ্যে হয়তো অনেক সাহাবীদের ইসলাম গ্রহণের গল্প থাকবে কিন্তু বইটাতে শুধু ১১টা সাহাবীর গল্প ছিল। আশা করি আপনি এই সাহাবীদের ইসলামগ্রহণের গল্প বুক রিভিউ পড়ে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন।

Bangla Amader

Bangla Amader talks about all about Bangla Books and around its like Bangla Book review, Summary, Audiobook, Quotes, etc.

Leave a Reply