You are currently viewing প্রোডাক্টিভ মুসলিম বুক রিভিউ

প্রোডাক্টিভ মুসলিম বুক রিভিউ

প্রোডাক্টিভ মুসলিম বইটা আমার পড়া সেরা একটি বই আর এই জন্য আমি প্রোডাক্টিভ মুসলিম বইয়ের রিভিউ দেবার চেষ্টা করলাম যাতে আপনারাও এইটা পড়ে উপকিত হতে পারেন।

মুসলমানরা প্রোডাক্টিভ জাতি। মুসলিম দাবিদার প্রত্যেকেই প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করতে বাধ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইসলামি জীবন – পদ্ধতি ও রুটিনকে পড়োডাক্টিভিটির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সত্যিই ও কি তাই? আমরা এই বিইয়ে সে প্রশ্নের সমাধান খুঁজব।

জীবনধারণের বাস্তবসম্মত পথনিদের্শিকা খুঁজে পেলে আপনি নিশ্চয় দারুণ উচ্ছ্বসিত হবেন! আর সেখানে যদি আপনার যাপিত জীবনের বিশ্বাস ও কর্মের সম্পর্ক খুঁজে পান, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! প্রোডাক্টিভ মুসলিম বই থেকে আপনি জানতে পারবেনঃ

  • ইসলামি জীবন – পদ্ধতি কীভাবে প্রোডাক্টিভিকে নিশ্চিত করে?
  • কীভাবে আপনি ঘুম, পুষ্টি ও ফিটনেস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবেন?
  • ঘরের বাহিরে সামাজিকভাবে আপনি কীভাবে প্রোডাক্টিভ হবেন?
  • বয়স – সন্ধিক্ষণে কীভাবে আপনি নিজের ফোকাস ধরে রাখবেন?
  • কীভাবে আপনার প্রোডাক্টিভিটির অভ্যাস ও রুটিন তৈরি করবেন?
  • কীভাবে আপনার সময়ের সদ্ব্যবহার করবেন?
  • কীভাবে আপনার সময়কে আখিরাতের জন্য বিনিয়োগ করবেন?

বইয়ের নামঃ প্রোডাক্টিভ মুসলিম

লেখকঃ মোহাম্মদ ফারিস

অনুবাদঃ মিরাজ রহমান এবং হামিদ সিরাজী

প্রকাশকঃ গার্ডিযান পাবলিকেশন

পৃষ্ঠাঃ ২৫৪

কিছু কথা যা দাগ কাটে মনেঃ যখন আপনি এখন ধার্মিক ব্যক্তির কথা চিন্তা করেন, আপনার মনে কী ভেসে ওঠে? অবশ্যই আপনি ভাববেন, যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, দান করেন এঁর প্রতিদিন কুরআন চর্চা করেন। তবে শুধু এগুলো করলেই যে ধার্মিক হওয়া যাবে তা নয়; একজন প্রকৃত ধার্মিক তিনিই, যিনি এই কাজের পাশাপাশি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌কে খুশি করার জন্য মানবজাতির উন্নয়নে কাজ করেন। 

এই ব্যপারে হজরত আনাস ইবনে মালিক (রহঃ) – এর হাদিসে বলা হয়েছে – 

” যদি কোনো মুসমান একটি গাছ লাগিয়ে থাকে, সেই গাছ অন্য কোনো মানুষ অথবা পশু খেয়ে থাকলে সেই মুসলিম দান করার সমপরিমাণ পুরস্কৃত হবেন।’ 

ধার্মিক হতে হলে আপনাকে একজন প্রোডাক্টিভ বান্দা হতে হবে। আপনাকে শুধু আধ্যাত্মিক বিষয়ে প্রডাক্টিভ হলে চলবে না; প্রোডাক্টিভ হতে হবে শারীরিকভাবেও। 

ধার্মিক ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত হওয়ার ফলে আমরা সবচেয়ে গুরুতবপূর্ণ বিষয়ে ভুলে যাই। আমরা আমাদের প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বের অবজ্ঞা করছি। আল্লাহ্‌ কুরআন বলেছেন – 

” আর জাবুরে আমি উপদেশের প্র এ কথা লিখে দিয়েছি, জমিনের উত্তরাধিকারী হবে আমার নেক বান্দারা।” সূরা আম্বিয়াঃ ১০৫” 

উত্তরাধিকারী বলতে আমরা কী বুঝি? এই শব্দের অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রকৃত বান্দা হিসেবে এই পৃথিবীর উন্নয়ন করতে হবে। এটিকে জীবনের জন্য উত্তম করে তুলতে হবে। হজরত আনাস (রাঃ) আরও বলেছিলেনঃ 

যদি কিয়ামতের দিন চলে আসে, আর কারও হাতে একটি গাছ থাকে – যা লাগানোর জন্য মাটি খুঁড়ছিল, তাহলে তাদের আরও কিছু মুহূর্ত সময় দাও, যাতে করে তারা তাদের কাজ শেষ করতে পারে।”

প্রোডাক্টিভ মুসলিম বুক রিভিউ এবং ছোট দুইটা সামারি দেওয়া হলঃ

প্রথম অধ্যায়ঃ ইসলাম এবং প্রোডাক্টিভিটি 

প্রোডাক্টিভিটি সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে আধুনিক প্রোডাক্টিভিটি আবিষ্কার কি করে হল এবং কেনই বা এর প্রয়োজন পরলোহ এবং এর প্রভাবই বা কিঃ 

প্রোডাক্টিভিটি সম্পর্কে আরো ভালো করে জানতে আমাদের জানতে হবে এর ইতিহাসটা। 

প্রোডাক্টিভিটি আবির্ভাবের ৩টি মূল কারণ রয়েছেঃ 

১। বিজ্ঞান ও যুক্তি যুগে নতুন করে মানুষের মনে প্রাধান্য পেতে শুরু করে এবং আরো প্রশ্ন করতে শুরু করে। এতে করে তারা নিজেদের মধ্য ঘটতিগুলো চিনিহিত এবং তা ঠিক করার চেষ্টা করে। 

২। চার্চ এবং রাস্ট্র আলাদ হবার ফলে মানুষ ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে শুরু করে এবং তারা সামাজের দিকে বেশি সময় দেওয়া শুরু করে। 

৩। শিল্প বিপ্লবের সময় মানুষ টাকায় পেছনে ছুটতে শুরু করে যা ” পারসুট অব ম্যাটেরিয়ালিজম” বলে পরিচিত। এতে করে তারা নিজেদের মধ্য কর্মক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করে। 

আধুনিক প্রোডাক্টিভিটির গোড়া পতন হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন যুক্তি এবং জ্ঞান বিস্তৃত হওয়া শুরু হয়, তখন মানুষজন সবকিছুকেই যুক্তি এবং বিজ্ঞানের চোখ দিয়ে দেখতে শুরু করে। 

তার তখন থেকেই মানুষের মধ্য থেকে ধর্মের প্রভাবতা কমতে শুরু করে। আর পাশ্চাত্যে বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করে মানবজাতির উন্নয়ের জন্য ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা – ভাবনা দূরে সরিয়ে রাখতে। 

১৮৫৬ – ১৯১৫ প্রথম ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞান এই প্রোডাক্টিভিটিকে উপস্থাপন করেন। 

কিন্তু প্রোডাক্টিভিটির এই ইঁদুর – দৌড় খেলায় আমরা আমাদের জীবনের ৩তি মূল্য জিনিস হারিয়েছিঃ 

১। জীবনের উদ্দেশ্য 

২। মূল্যবোধ 

৩। আমাদের হৃদয় 

এছাড়াও এই প্রোডাক্টিভিটির জন্য গরিব এবং ধনীর মধ্যা পার্থক্য তৈরি হয়েছে, অতিতিক্ত কাজের চাপে মানুষের শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আজ মুসমানরা যেকোন মূল্য প্রোডাক্টিভিটি হতে চায় কিন্তু মুসলমানদের প্রোডাক্টিভিটি জন্য নিজেস্ব একটা স্টাইলের ” প্রোডাক্টিভিটি ব্যন্ড”  আছে যা আমাদের আবার গড়ে তুলতে হবে। 

ইসলামের দৃশ্যটি প্রোডাক্টিভিটি 

ইসলামের প্রোডাক্টিভিটি ৩টি দৃষ্টিভুঙ্গির কথা বলা হয়েছে এছাড়া লেখক আমাদের মুসমানদের ৫ ভুল ধারণা যা এখানে সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। 

 ৩টি দৃষ্টিভুঙ্গির

১। লক্ষ্য – উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রোডাক্টিভিটি

২। মূল্যবোধ প্রণোদিত প্রোডাক্টিভিটি 

৩। রূহ – প্রণোদিত প্রোডাক্টিভিটি 

১। লক্ষ্য – উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রোডাক্টিভিটি

উদ্দেশ্য বিহীন কোনো কিছুর পিছনে ছুটা মানেই হল একটা মরীচিকার পিছনে অভিরাম চলা। আমরা যভাবেই দেখি না কেনো জীবন নিয়ে আমাদের ধারণা ভাষা – ভাসা এবং লক্ষ্য – উদ্দেশ্য খুবই অপরিপক্ক। আমরা এই বস্তুবাদী জীবনের মায়া প্রতিনিয়তি আটকা পরে আছি। 

ইসলাম একটি সুস্পষ্ট এবং সুনিদিস্ট জীবন – দর্শন; যা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দারুন প্রভাব বিস্তার করে। আর পবিত্র কোরআনে বলা আছেঃ 

“জিন ও মানুষকে আমি শুধু এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার দাসত্ব করবে” 

সূরা জারিয়াতঃ ৫৬   

আর বলা হয়েছেঃ 

” আবার সেই সময়ের কথা একটু স্মরণ করো, যখন তোমারা রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিযুক্ত করতে চাই। তারা বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে নিযুক্ত করতে চান, যে সেখানকার ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্থ করবে এবং রক্তপাত করবে? আপনার প্রশংসা ও স্ততি সহকারে তাসবিহ পাঠ এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা তো আমরা করেই যাচ্ছি। আল্লাহ্‌ বললেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না’ 

সূরা বাকারাঃ ৩০ 

উপড়ে এই দুই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আল্লাহ্‌ আমাদের দুটি কারণে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেনঃ 

১। আল্লাহ্‌র বান্দা হতে 

আমাদের মনে রাখা উচিত আমরা এই দুনিয়াতে চিরস্থায়ী কেউ থাকটে পারবেন না আর আল্লহ আমাদের একটা উদ্দেশ দিয়ে এ দুনিয়াতে পাঠাইছে আর তা হল আর্দশ বান্দা হতে। 

২। পৃথিবীতে তার সফল উত্তরসূরি হতে       

মুসলমানদের ৫ টি ভুল ধারণাঃ 

১। আমাদের দুনিয়াকে উপেক্ষা করতে হবেঃ 

২। দু’আ করো, সব ঠিক হয়ে যাবেঃ 

৩। জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়বে, র্ধৈয ধরতে হবেঃ 

৪। ধার্মিক্তা = ইবাদত 

৫। ভাগ্যে যা লেখা আছে তাই হবে

অধ্যায় ৩ঃ স্পিরিচুয়াল প্রোডাক্টিভিটি

আপনি যদি আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে চান তাহলে আপনাকে একজন মুসলিম হিসাবে আপনার স্পিরিচুয়াল এনার্জি অবশ্যই বাড়াতে হবে এবং এর দিকে যথাযথ খেয়াল দিতেই হবে। 

 পিরিচুয়াল এনার্জি বৃদ্ধির জন্য আপনাকে এই ৫টি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতেই হবে এবং এইগুলো নিজের জীবনের ভিতরে প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমি এখানে আপনাকে ৩ টি বিষয় সর্ম্পকে নিয়ে বললো, বাকি বিষয়গুলো আপনি বই পড়লেই বুঝটে পারবেন।

১। তাকওয়া 

তাকওয়া মানে হচ্ছে আল্লাহ্‌র ভয় সবসময় মনে জাগরত রাখা। যার মনে আল্লাহ্‌র ভয় থাকে সে সহজে কোনো খারাপ কাজ করতে পারে না। তাই বলা হয় আপনি যত বেশি তাকয়াবান আপানর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব তত বেশি শক্তিশালী। আপনি যখন সফলতার দিকে হাঁটতে থাকেন তাখন তাকওয়া আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিত্যে সাহায্য করে। 

তাকওয়া নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন উবাই ইবনে কাব্ (রাঃ), 

বনিত আছে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন ( রাঃ) উবাই ইবনে কাবকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উবাই বলেনঃ 

“ তুমি কি এমন পথে হেঁটেছ, যাতে কাঁটা রয়েছে?’ 

উমর (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ। 

উবাই জিজ্ঞাসা করেন – ‘ তখন তুমি কী করেছিলে?’ 

উত্তরে উমর (রাঃ) বলেন – ‘আমি আমার হাতা গুটিয়ে সংগ্রাম করছিলাম।’ 

উবাই (রাঃ) বলেন – ‘ এটাই তাকওয়া, যা মানুষকে জীবনের বিপদসংকুল পরিভ্রমণে পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখে, যেন সে পাপের আচড়মুক্ত থেকে সফলভাবে তার ভ্রমণ করতে পারে। 

তাকওয়া নিয়ে অনেক ঘটনা আছে, যা মানুষকে অবশ্যই সাফল্য ও বারাকাহর দিকে ধাবিত করেছে। আপনাকে একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেই। 

“ এক মেয়ে বাজারে দুধ বিক্রির উদ্দেশ্য তার মায়ের কথামতো দুধে পানি মেশাতে অস্বীকার করেছিল। মেয়েটি তার মাকে সর্তক করেছিল, কারণ খলিফা উমর (রাঃ) দুধে পানি কোনো কিছু মেশাতে নিষেধ করেছিল। তার মা উত্তর দিয়েছিল, উমর (রাঃ) আশে পাঁশে নেই এবং কেউ টের পাবে না। 

মেয়েটি বলেছিল, “ কিন্তু আল্লাহ্‌ তো আমাদের দেখছেন”। 

উমর (রাঃ) মা ও মেয়ের উভয়ের অজান্তে পুরো আলোচনা শুনে ফেলেন। তিনি মেয়েটির উত্তরে মুগ্ধ হয়ে তার এক ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিবাহের মনস্থ করেন। এভাবেই তাকওয়ার বারাকাহ মেয়েটিকে একটি সমৃদ্ধ শুভ বিবাহের দিকে পরিচালিত করে, যা সমাজে তার অবস্থানকে উজ্জ্বল করেছিল।    

২। তাওয়াক্কুল ইল্লাল্লাহ 

তাওয়াক্কুল ইল্লাল্লাহ মানে হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রতি সম্পর্ণ আস্থা রাখা। আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে আল্লাহ্‌র উপর পরোক্ষভাবে আস্থা রাখলে যথেষ্ট আর সবকিছু এমনিতেই হয়ে যাবে, এ ব্যাপারে নবিজি (সাঃ) বলেছেন,

“ তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ্‌ তায়ালার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হবে। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যাবেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে। “ – ইবনে মাজাহঃ ৮১৬৪ 

আপনি কি লক্ষ করেছেন পাখিরা খাবারে আশায় ঘরে বসে থাকে না বরং তারা আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে খাবারে সন্ধ্যানে বেড়িয়ে পড়ে। আর এমনইভাবে জীবনে বারাকাহ এবং স্পিরিচুয়াল এনার্জি পেতে চাইলে অবশ্যই জীবিকা অনুসন্ধান করতে হবে। 

আপনার কি আনাস থেকে বনিত বিখ্যাত গল্পের কথা মনে আছে? 

একজন নিবিজি (সাঃ) জিজ্ঞাসা করেছিলেনঃ 

“ আমার উটটি বেঁধে তাওয়াক্কুল করা উচিত, নাকি তাকে ছেঁড়ে দিয়ে তাওয়াক্কুল করর?” 

নবিজি (সাঃ) বলেছেনঃ বেঁধে রেখে। – তিরমিজি 

আপনার মনে বদ্ধমূল গেঁথে নেন যে আমি আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে সবকিছু করে যাবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখবো না। 

আপনি যুদি আল্লাহ্‌র উপর অজ্ঞাত বিশ্বাস রাখতে পারেন তাহলে আপনি অনুপ্রাণিত হবেন, আশাবাদী হবেন এবং সহজেই ছিটকে পড়বেন না। আপানার বিশ্বাস রাখতে হবে আল্লাহ্‌ আপনকে সেরাটাই দিবে, যদিও দৃশ্যত মনে হয় আপনার পদক্ষেপগুলো কার্যকর হচ্ছে না। 

আর তাওয়াক্কুল বৃদ্ধির জন্য আপনি একটি কাজ করতে পারে, 

যখন বাড়ি থেকে বের হবে তখন এই দোয়াটা পড়ে নিবেনঃ 

“ বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলল্লাহ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” অর্থ্যা – “ আল্লাহ্‌র নামে, আমি আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা করছি আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো সামর্থ্য এবং শক্তি নেই ।’ – আবু দাউদ 

৩। শোকর 

আপনার জীবনে প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তোলার জন্য শোকর গুজার অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  একটি প্রোডাক্টিভিটি উপর গবেষণায় দেখা গেছে যে “ যেসব অংশগ্রহণকারীরা কৃতজ্ঞদের তালিকায় ছিল, তারা দুই মাসের মধ্যে অন্যান্য পরীক্ষায় শর্তাদি পালনকারী অংশগ্রহণকারী তুলনায় ব্যক্তিগত লক্ষ অর্জনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রবণতা ছিল অধিক। 

আল্লাহ্‌তালা কুরআনে বলেনঃ 

“ তুমি কৃতজ্ঞ হলে আমি তোমাকে আরও দেবো” – সূরা ইবরাহিম – ৭

কি চমৎকার ওয়াদা, যা আল্লাহ্‌ আপনার, আমার এবং আমাদের সাথে করছেন। আর আপনার সাথে কে ওয়াদা করছেন ! আপনার মালিক যার কথা বাণী কোনো সময় একচুল পরিমাণ মিথ্যা হয় না।  

কৃতজ্ঞাবোধ আপনার মনে আশার সঞ্চয় করে এবং কঠিন সময়ে মোকাবেলায় করতে আপনাকে সাহায্য করবে। 

 কৃতজ্ঞাবোধ নিয়ে আবু সুহাইব ইবনে সিনান থেকে নবিজি (সাঃ) থেকে বনণা করেনঃ 

মুমিনের ব্যাপার কত আশ্চর্যজনক সবকিছুতেই তা জন্য কল্যাণ আছে, এর এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল তার জন্যই। আনন্দের কিছু ফটলে সে কৃতজ্ঞ, আর এটা তা পক্ষে কল্যাণকর। আর যুদি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়, সে ধৈর্যশীল হয়, এটা তার জন্য কল্যাণজনক।’ – মুসলিম 

কৃতজ্ঞাবোধ আপনাকে জীবনে প্রতিমূর্হতে আপানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নবিজি তা পয়া ফুলে যাওয়া পর্যন্ত রাতের সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল “ জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন এ রকম অসহনীয় সালাত আদায় করেন” তিনি বলেছিলেন – 

আমি কি শোকরগুজার বান্দা হব না?’ – বুখারি 

কৃতজ্ঞতা আপনার ভিতরে লভের তাড়না কমিয়ে দিবে, আর আপর দিকে লোভ আপনাকে একটা মরিচার দিতে অবিরাম তাড়না দিবে তার যা শেষ হবে আপনার মৃত্যু মাধ্যমে। আপনি যুদি শোকরগুজার হোন  তাহলে আপনি আল্লাহ্‌র ভালোবাসা সিক্ত হবেন ইশআল্লাহ্‌। 

আল্লাহ্‌র শকরিয়া আদায়ের তাওফিক প্রার্থনায় করে প্রতিটি সালাতের পড় নবিজির শিখানো এই দোয়াটি পড়ুনঃ 

“ আল্লাহুমা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া – শুকরিকা ওয়া – হুসনি ইবাদাতিকা” 

অথ্যাঃ সে আল্লাহ্‌!, আমাকে তোমার স্মরণ নেওয়ার, তোমার শোকরগুজারের এবং সঠিকভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দাও।” 

Bangla Amader

Bangla Amader talks about all about Bangla Books and around its like Bangla Book review, Summary, Audiobook, Quotes, etc.

Leave a Reply