You are currently viewing অলসতার বিরদ্ধে যুদ্ধ কোটস

অলসতার বিরদ্ধে যুদ্ধ কোটস

আমার পড়া সেরা বইগুলার মধ্যে এই বইটা অন্যতম, আর অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বইয়ের কোটস গুলা অনেক সুন্দর। আপনি যুদি এই বই সম্পর্কে আরো জানতে চান তাহলে বুক রিভিউটা দেখে আসতে পারেন। 

এই বই থেকে পাওয়া নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন – 

‘শাদ্দাদ, যখন তুমি মানুষকে স্বর্ণ – রূপা জমিয়ে রাখতে দেখবে, তখন এই বাক্যগুলো মনে গেঁথে রেখো – 

  • যে আল্লাহ্‌, আমি আপনার কাছে আদেশপালনে দৃঢ়তা এবং ঠিক কাজে অবিচলতার শক্তি কামনা করি। 
  • আপনার অবশ্যম্ভাবী রহমত এবং মাগফিরাত দৃঢ় ইচ্ছা আপানর কাছে চাই। 
  • আপনার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় এবং উত্তম ইবাদতের তাওফিক আমি কামনা করি আপনার কাছে। 
  • আপানর কাছে চাই প্রশান্ত মন, সত্যবাদী জবান। 
  • আপনার কাছে চাই সমূহ জ্ঞানের কল্যাণ, পানাহ চাই জ্ঞানের অকল্যাণ থেকে। 
  • মাফ চাই জানার ভুলভ্রান্তি থেকে, অবশ্যই আপনি সকল অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞানে রাখেন। 

অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বুক কোটস 

১। সুফইইয়ান ইবনু উয়াইনা রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ 

ইলম তোমার উপকার না করলে নিশ্চিত তোমার ক্ষতি করবে। 

কেননা, তুমি ইলম অনুযায়ী আমল না করলে সেই ইলম তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে থাকবে। আর সে অনুযায়ী কিয়ামতের দিন তোমাকে প্রতিদান দেওয়া হবে। 

পৃস্টাঃ ১৮ 

২। ইমাম রাগিব রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ 

যে ব্যক্তি কর্মহীন ও অলস জীবন যাপন করে সে মনুষ্যত্বের গন্ডি থেকে বেরিয়ে যায়; রবং প্রাণীর কাতার থেকেই টা নাম কেটে যায়। সে নিজের নাম লিখিয়ে নেয় মৃতের কাতারে। যেহেতু “অবসর” মানুষের মানবিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে নিঃশেষ করতে থাকে, তাই অব্যবহত প্রত্যেক প্রতিভা – বরং প্রতিটি অঙ্গ – তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে অন্ধ চোখ এবং অবশ হাতের মতো হয়ে পড়ে। তা কোনো কাজেই আসে না। এভাবে অলসতার কারণে মানবদেহ বিলাসিতায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। ঠিক তেমনি গবেষণা ও চিন্তা – ভাবনা না করার ফলে অন্তর হয়ে যায় নির্বোধ। পৌঁছে যায় চতুষ্পদ প্রাণীর স্তরে। 

পৃস্টাঃ ২২ 

৩। ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ 

নিজ বন্ধু -বান্ধবদের অজানা ইল্মের সন্ধানে এবং দারিদ্রর কারণে সবচ্ছলতার তাগিদে বের হতে দেখেও যে ব্যক্তি অলসতা করে, তার জীবনের অর্থ কি? অলসতার ছলনাময়ী মরীচিকার স্বাদ অ প্রশান্তির মানে আছে তার। 

পৃস্টাঃ ২৩ 

৪। ফাতহ আল – বুস্তি রাহিমাহুল্লাহ বলেন – 

তুমি কি এমন কারও কথা শুনেছ, যে অলসটার ঝুলি থেকে মধু আহরণ করেছে? 

তাই প্রত্যেক অকর্মণ্য নারী পুরুষকেই বলছি – 

যে অলসতা পুষে রাখে, সে কখনো মধু সংগ্রহ করতে পারে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অলসতা ডেকে আনে লাঞ্ছনা। 

পৃস্টাঃ ২৩, ২৪ 

৫। অলসতার প্রতিটি গোত্র ও জাতির পতনের কারণ। প্রতিটি রাস্ট্র সভ্যতার অবক্ষয়ের প্রবেশদ্বার। এজন্যই বারামেকা সম্প্রদায়ের কোনো এক ব্যক্তিকে তাদের সাম্রাজ্য ধ্বংসের কারণ জিজ্ঞাসা কার হলে সে উত্তর দিয়েছিল – 

ভোরের ঘুম ও সন্ধ্যার পানীয় গ্রহণ। 

পৃস্টাঃ ২৫ 

৬। ইমাম জামাখশারি রাহিমাহুল্লাহ রবিউল – আবরার গন্থে বলেন – 

ইবাদতকারীর ওপর ইবাদত খুব ভারী হয়, যেভাবে তা ওজনের পালায়ও হবে ভারী। আর অলসের জন্য অলসতা হয় হালকা, যেমন তা ওজনের পাল্লায়ও হবে হালকা। 

পৃস্টাঃ ২৭ 

৭। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন – 

মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের দিকে বসে তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেক গিটের জায়গায়ই সে এই বলে আঘাত করে, ‘তোমার জন্য আরও দীর্ঘ রাত পরে আছে। তুমি ঘুমাও।’ সে যদি ঘুম থেকে জেগে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তখন একটি গিঁট খুলে যায়। অজু করলে খুলে যায় আরেকটি। আর সালাত পড়ে নিলে সবগুলো গিঁট খুলে যায়। তখন সে উদ্যমী ও প্রফুল্ল মনে তার দিনটা শুরু করতে পারে। অন্যকথায় তার সকালটা শুরু হয় গোমড়ামুখে ও অলসভাবে। 

পৃস্টাঃ ২৮ 

৮। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন – 

প্রতিটি কাজেই ‘উদ্দীপনা থাকে; তবে সেই উদ্দীপনারও; বিরতি’র সময় আছে। সুতরাং যায় সেই বিরতি কাটবে আমার শুনতের পাবন্দিতে, সে হিদায়তের দিশা পাবে। অন্যথায় তার ধ্বংস অনিবার্য। 

পৃস্টাঃ ৩১ 

৯। যে কোনো দীর্ঘ অবসরই মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে এবং কর্তব্যপালনে অবহেলায় মানুসিতা সৃষ্টি করে। কারণ, অলসতা হচ্ছে এমন এক ‘ইয়োলো – সাইন’ – যা আপনাকে নির্দেশ করে, আপনি বিপজ্জক ‘রেড – জোনে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। নিষিধ নগরীতে আপনার পদচারণা হতে যাচ্ছে। সুতরাং অলসতার মনোভাব গোপনে আসতে আসতে বেড়ে ওঠার সময়েই যে ব্যক্তি সতর্কীকরণ ঘণ্টার আওয়াজে জেগে ওঠে, তার সজাগ অন্তর এর সর্বনাশা পরিণতি বুঝতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইমাম হরণকারী ইবলিসের চক্রান্ত মাঝপথেই আটকে দেয়। 

পৃস্টাঃ ৩২ 

১০। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাজিয়াল্লাহু আনহুঃ 

তোমরা একসময় এমন এক যুগে উপনীত হবে যখন একমাত্র সেই ব্যক্তিই বাঁচতে পারবে, যে পানিতে ডুবতে থাকা ব্যক্তির মতো করে অনবরত দুআ করতে হবে। 

পৃস্টাঃ ৪২ 

১১। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন – 

সবচেয়ে অক্ষম তো সেই ব্যক্তি, যে দুআ করতে পারে না। 

পৃস্টাঃ ৪৭

১২। ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ 

সেই সত্ত্বার সামনে নিজেকে পেশ করো, যিনি তাদের ( দুনিয়ার দাতাদের) দান করেন। সবকিছু তার কাছেই চাও। যিনি তোমার মালিক, সেই তিনিই তো তাদের মালিক। 

পৃস্টাঃ ৪৮ 

১৩। ইবাদত না করার শারীরিক অলসতা। যা মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলে সালাতে বিলম্ব করার প্রতি। এটি করার বেশি প্রকাশ পায় ফজর এবং এশার সালাত, এই দুই পরীক্ষার সময়। এজন্যই মুনাফিকরা পেছনে রয়ে যায়। 

পৃস্টাঃ ৫২ 

১৮। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন – 

কাঁটাগাছ থেকে যেমন আঙ্গুর আহরণ করা যায় না, ঠিক তেমনি সৎকর্মশীলদেরকে পাপাচারীর কাতারে নামিয়ে আনা হবে না। সুতরাং তোমরা যে পথ ইচ্ছা বেঁছে নাও! তোমরা যে পথে চলবে, সে পথের লোকদের সাথেই অবতরণ করবে। 

পৃস্টাঃ ৫৪ 

১৫। শাকিক আল – বালখি ঈমান নিফাকির মাঝে এভাবে পার্থক্যরেখা স্পষ্ট করেছেন – 

মুমিনের উপমা হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি খেজুর গাছ রোপণ করে কাঁটা গাছ বহন করার শংকার থাকে। আর মুনাফিকের উপমা হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে কাঁটা গাছ রোপণ করে খেজুর কেটে আনার আশায় থাকে। 

পৃস্টাঃ ৫৬ 

১৬। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 

তারা কিয়ামতের দিন কারুন, ফিরাউন, হামান ও উবাই ইবনু খালফের সাথে একএ হবে। সুতরাং, ফজর আদায়ে বিলম্ব করা এবং মনোযোগী না হওয়া বান্দাকে কাফেরদের র্শীষ নেতাদের দলে ভিড়িয়ে দেবে। তাদের সাথে তাকেও একই শিকলে বেঁধে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া যাবে। 

পৃস্টাঃ ৫৬ 

১৭। আমরা যফি ফজরের সালাতে অবহেলা করি তবে আমরা বিছানার আরামের দিক থেকে মুনাফিকদের কাতারে চলে যাব। সুতরাং প্রতিদান প্রদানেও কঠিন শাস্তি ও কড়া হিসাব গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত মুনাফিকদের পরিপূর্ণ অনুসরণ করা হবে। তবে যদি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু প্রভু আমাদের প্রতি রহম করেন তবে তা ভিন্ন কথা 

পৃস্টাঃ ৫৭ 

১৮। আমরা যদি ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করি, অথবা মিথ্যা কথা বলি তবে আমরা নিফাকির এক তৃতীয়াংশকে আবশ্যক করে নিলাম। 

পৃস্টাঃ ৫৭ 

১৯। আমরা যদি লৌকিকতার নিয়তে দান করি অথবা দান করে কষ্ট ও খোঁটা দিই তবে আমরা মুনাফিকই চক্রের অনুসারী হয়ে গেলাম। 

পৃস্টাঃ ৫৭ 

২০। নিজেকে যে জ্বলাতে পারে, সে – ই সৃষ্টি করে আলোড়ন সেই হয় গতিশীল। 

পৃস্টাঃ ৫৮ 

২১। ভয় এমন এক চাবুক, যা দিয়ে অলসদের তাড়িয়ে নেওয়ায় যায়। 

পৃস্টাঃ ৫৮ 

২২।   নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 

কোনো ব্যক্তি যদি জন্ম থেকে বয়োঃবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত আল্লাহ্‌র সন্তুস্টি কামনায় সিজদায় লুটিয়ে থাকে তবুও তা কিয়ামতের দিন নিতান্তই তুচ্ছ হিসেবে পরিগণিত হবে। 

পৃস্টাঃ ৫৯ 

২৩। আবু দারদা রাজিয়াল্লাহু আনহু মরণাপন্ন অবস্থায় বলেছেন – 

একটি কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দিয়ো – 

ফজর ও এশা – এই দুই সালাত জামাতে পড়ার ব্যপারে যন্তবান হও। তোমরা যদি এই দুই সালাতের সওয়াব সম্পর্কে জানতে তবে তোমরা বাহু ও হাঁটুতে ভড় করে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও চলে আসতে। 

পৃস্টাঃ ৬২ 

২৪। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ  

নিশ্চিয়ই কিয়ামতের দিন আমার সবচে কাছের হবে সে ব্যক্তির, যে আমার ওপর সবচে বেশি দুরুদ পড়বে। 

পৃস্টাঃ ৬৩ 

২৫। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ  

যে ব্যক্তি ফজরের সালাত পড়বে সে আল্লাহ্‌র জিম্মায় থাকবে। 

যারা অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের সুসংবাদ দাঁও কিয়ামতদিবসের পূর্ণ জ্যেতির। 

যেখানে কেউ দেখে না এমন জায়গায় কোনো বান্দার নফল সালাত আদায়, প্রকাশ্য স্থানে সালাত আদায়ের চেয়ে ২৫ গুন বেশি সওয়াবের। 

পৃস্টাঃ ৬৪, ৬৫ 

২৬। যে সাওয়াব নিয়ে দম্ভ করে তার আমল হালকা হয়ে যায়। 

পৃস্টাঃ ৬৬ 

Bangla Amader

Bangla Amader talks about all about Bangla Books and around its like Bangla Book review, Summary, Audiobook, Quotes, etc.

Leave a Reply