পডকাস্টের টপিক, নাম, ফরম্যাটে কি হবে বা হতে পারে ?

পডকাস্ট শুরু করার সময় যেই কথাটা আমরা বাড়ে বাড়ে শুনি তা হল আমি কি নিয়ে পডকাস্ট করবো বা টপিক হবে, এর নাম কি হবে  এবং এর ফরম্যাট কোনটা? 

আজ আমি আপনার এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিবো। যা ধারা আপনি ধারনা পেয়ে যাবেন এবং পডকাস্ট শুরু করার জন্য আগ্রহ পেয়ে যাবেন এবং কিভাবে করতে হবে তাও জেনে যাবেন।

পডকাস্ট শুরু করার প্রথমেই যেই কথাটা সবার আগে আসে তা হলঃ

১। পডকাস্টের টপিক কি হবে?   

যুদি আপনি আগে থেকে ঠিক করে রাখেন তাহলে এক বা দুই শব্দে লিখে ফেলুন টপিকটা এই যেমন ধরুন আমি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে আমি কি নিয়ে পডকাস্ট করবো।

তাই আমার এই নিয়ে এতো চিন্তা করতে হয় নি। যুদি আপনার বেলাতেও একই হয় থাকলে আপনি ওই টপিকি রাখতে পারেন। তাহলে আপনার রিসার্চ করা দরকার নেই।  

ধরে নিলাম আপনি এখনো ঠিক করতে পারেন নি কি নিয়ে কাজ করবেন, সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে কিছু জনকপ্রিয় নিস বা টপিকের কথা বলবো।

আর এইটা আমি বলছি না, এটা আমেরিকার একটা পরিসংখ্যান এবং এর উপর নির্ভর করে আপনি আপনার পডকাস্ট টপিক নিতে পারেন।

যেহেতু আমেরিকানদের ইংরেজিতে এই টকিপ বা নিস ভালো লেগেছে বলা যেতে পারে বাংলাতেও এই টপিকগুলো ভালো কাজ করবে যুদি আপনি একটু বুদ্ধি খাটাতে পারেন।

২। পডকাস্টের জন্য কিছু টপিকঃ

১। বুক সামারি

২। স্বাস্থ্য ( স্বাস্থ্য টপিকর এর উপড়ে আরো ভাগ করা যায়)

৩। নিউজ ( নিউজ এর ভিতরে আরো ভাগ করা যায়)

৪। মোবাইল, ল্যাপটপ, ইত্যাদি টেকনোলজি ধরনের

৫। উদ্যোক্তাদের ইন্টারভিউ ( অথবা অন্য কোনো টপিকে ইন্টারভিউ)

৬। ব্লজ্ঞিং, ইউটিউব এগুলো নিয়ে পডকাস্ট করা।

৭। পশু, পাখি নিয়ে পডকাস্ট করা।

ইত্যাদি ইত্যাদি… আরো অন্যকে টপিক আছে। এখনা প্রশ্ন আসতে পারে পডকাস্টের নাম নিয়ে।

আপনি যুদি নতুন পডকাস্টার হয়ে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনার অনেক বেশি চিন্তা বা মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে আপনার পডকাস্টের নাম নিয়ে। 

আর আমাদের অনেকেই এই একই ভুল করে থাকি নামের ক্ষেত্রে। সেটা যে শুধু পডকাস্টে ক্ষেত্রে হয় তা কিন্তু নয়। এটা হতে পারে ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা পডকাস্টের নামের বেলাতেও। 

আপনি অনেক পডকাস্টারকেই দেখবেন তারা নাম দিয়েছে অনেক দারুণ কিন্তু এই দারুণ নামের সাথে তাদের পডকাস্টের কোনো মিল নেই। 

তাহলে কথা হচ্ছে এই ধরনের নাম দিয়ে না আপনার শ্রোতারা ( যারা আপনার পডকাস্ট শুনবে) বুঝতে পারবে, না আপনার নিজের কোনো লাভ হবে। তারা আপনার পডকাস্ট সাবস্ক্রাইব করবে কি করবে না তা নিয়েও দ্বিধা দ্বন্দ্বে থাকবে।  

ফলে দেখা যাবে আপনার পডকাস্টের ডাউনলোড হচ্ছে না আর আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত  ডাউনলোড পাচ্ছেন না । সুতরাং এতে আপনার বিশাল একটা ক্ষতি হচ্ছে। 

৩। কিভাবে পডকাস্টের নাম নির্বাচন করবেন ?

এই যেমন ধরুন কেউ গল্প বলা পছন্দ করে এবং সে তাঁর পডকাস্টের নাম দিয়েছেন ছোট গল্প / Short Story এর আগে পিছনে চাইলে আপনি আপনার নাম লাগাতে পারেন। 

এরকম হতে পারে  Short Story with Shagor। আরেকটা কথা আপনি আগেই ঠিক করে নিবেন আপনি কি নিয়ে পডকাস্ট করবেন। যেটা আমরা উপড়ে বলেছি।

আপনি যুদি গল্প , সংবাদ, ইন্টারভিউ নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনাকে ঠিক ওই ধরনের নাম ঠিক করতে হবে। যুদিও অনেকেই নিজের নামেই পডকাস্টের নাম দিয়ে থাকে। 

এখানে ব্যপারটা অন্য রকমের যুদি আপনি নিজের নামে পডকাস্টের করতে চান। কারণ হল আপনি যুদি কোন পরিচিত মুখ বা ব্যক্তি না হয়ে থাকেন তাহলে মানুষ আপনার পডকাস্ট শুনতে তেমন বেশি একটা আগ্রহ নাও পেতে পারেন। 

যেহেতু পডকাস্ট ব্যবপারটা এখনও নতুন সেই কারণের আপনি চাইলে যেকোনো ভালো কিওয়ার্ড এর সাথে মিল রেখে আপনার পডকাস্টের নাম রাখতে পারেন। 

এতে কি লাভ হবে? হতে পারে আপনি কোনো রকমে কষ্ট ছাড়াই গুগল এর রাঙ্ক বা উপড়ে চলে আসতে পারেন।

আবার এমনো হতে পারে গুগল পডকাস্টের অথবা অ্যাপল পডকাস্টের সার্চে আপনার পডকাস্টের নাম চলে আসতে পারে আগে। যেটাতে আপনি কোনো কাজ ছাড়াই একটা রাঙ্ক পেয়ে গেলেন।

এমন না যে আপনাকে করতেই হবে। আপনি চাইলে আপনার পছন্দের নাম নিতে পারেন। 

কিন্তু কথা একটাই যে তা যেন আপনার পডকাস্টের সাথে সর্ম্পকিত বা মিল থাকে। যাতে আপনার শ্রোতারা বুঝতে পারেন আপনি কি নিয়ে পডকাস্ট করছেন। 

কিছু উদাহরণ দেখা যাকঃ 

১।  PowerfulJRE ( ইন্টারভিউ) 

২। The American Life ( মানুষের জীবনের ধরন নিয়ে) 

৩। 1619 ( সিরিজ গল্প)  

৪। Buzzcast ( পডকাস্ট নিয়ে কথা বলে) 

৫। Bangla Podcast: Bangla Amader ( অনেকটাই অডিওবুক)

এখন আপনি চিন্তা করুন আপনি কি নাম দিবেন আপনার পডকাস্টের এবং নিচে কমেন্ট এ জানান।  

৪। পডকাস্টের জন্য লোগো এবং ডেসক্রিপশন

যখন আপনার টপিক এবং নাম হয়ে যাবে এখন আসবে লোগো এবং ডেসক্রিপশন এর ব্যপারটা। আপনার লগটাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

এখনপ্রশ্ন করতে পারেন আপনি কোথা থেকে লোগো তৈরি করবেন তাই তো?

চিন্তার কিছু নেই আপনি ফ্রিতে লোগো তৈরি করতে পারবেন। canva.com এ। আর ওই লোগোর সাইজতাও অ্যাপল পডকাস্ট সহজেই গ্রহণ করে।সুতরাং ওইখান থেকে করলে আপনার ডিজাইনার হওয়া লাগবে না। আপনি খুব সহজেই তৈরই করতে পারবেম।

আর যুদি আপনি নিজে আরো সুন্দর করে করতে চান তাহলে  মিনিমাম সাইজ ১৪০০ x ১৪০০ পিক্সেল আর ম্যাক্সিমাম সাইজ ৩০০০ x ৩০০০ পিক্সেল, 72 dpi, in JPEG or PNG।

এখন আসি ডেসক্রিপশন এর কথাটা, আপনি যেঁই টপিক নিয়ে পডকাস্ট করতে চান ওইটা সম্পর্কে ধরনা দিবেন ভালো এবং সুন্দর করে যাতে মনুষ পড়লেই বুঝটে পারে আপনার পডকাস্টা কি ধরনের।

৫। পডকাস্টের ফরম্যাটেটা আসলে কি ধরনের ?

যারা পডকাস্ট নিয়ে কাজ করেন বা করতে আগ্রহ আছে এবং রির্সাচ করেছে তারা জানেন পডকাস্ট আসলে কোন ফরম্যাটে করা হয় বা কোন ফরম্যাটে এ।

আর আপনি যুদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনাকে বলে দেওয়া দিচ্ছি। পডকাস্ট হল একটা অডিও ফরম্যাটে। আর হয়তো এই জন্যই এটা এতোটা জনকপ্রিয়।

এই যেমন ধরুন আপনি যুদি একটা ভিডিও দেখতে যান তখন আপনাকে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয়। তাছাড়া এর সাথে আপনি অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না।

কারণ ভিডিও জন্য আপনাকে শুনতে হবে এবং দেখতেও হবে। কিন্তু পডকাস্টের বলাতে ব্যপারটা একদম ভিন্ন আপনি পডকাস্ট যেকোনো জায়গাতে শুনতে পারেন।

পডকাস্ট শুনার পাশাপাশি অন্য যেকোনো কাজ করতে পারেন। আমেরিকানরা গাড়িতে, বাসে ভিন্ন অবস্থা তারা পডকাস্ট শুনে থাকে যেটা ভিডিও ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না।

পডকাস্ট আরো জানতে চাইলে আমাদের এই ব্লগ এর সাথেই থাকুন। আপনি ধীরে ধীরে আরো জানতে পারবেন পডকাস্ট নিয়ে।

এমনকি কিভাবে আপনি পডকাস্ট করে আয় করবেন তাও জানতে পারবেন। আপনার লিখাটা কেমন লেগেছে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে যান এবং আপনি নতুন কি কি জানতে চান তাও বলুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here