কারাগারে সুবোধ বই রিভিউ | Bangla Book Review

প্রতি বইয়ের একটি উদ্দেশ্য থাকে তাকে পূরণ করাই ওই বইয়ের লক্ষ থাকে কিছু বই পারে কিছু পারে না, এমটাই হয় সাধারণত। আজকের এই কারাগেরে সুবোধ বই রিভিজ দিয়ে শুরু করছি আমাদের এই বই রিভিউ চলার পথ।

কারাগেরে সুবোধ বইয়ের কাভার রিভিউঃ   

কারাগারে সুবোধ বই রিভিউ এর শুরুতে আমরা বইয়ের কাভার নিয়ে কথা বলবো। বইয়ের কাভার দেখলে আপনি অনুমান করতে পারবেন বইটা কি নিয়ে। বইটার কালার কালো রঙের উপড়ে বড় করে লিখা “কারাগারে সুবোধ”। এর একটু নিচেই দেখবেন একটা ছেলের ছবি এবং ছেলেটি কারাগারের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। এর ঠিক একটু নিচে লেখলের নাম এবং প্রকাশকের নাম। 

লেখক/ সম্পাদকের কথাঃ 

লেখক তার বইয়ের শুরুতেই একটি কবিতা দিয়ে শুরু করেছে। কিছুটা দেওয়া হলঃ

আজ এ বেলা আকাশটা বেশ আপন মনে হচ্ছে আমার।
রুদ্ধ চোখের স্নিগ্ধ স্বপ্ন, হাত উঁচিয়ে ডাকছে আবার ...
জান্নাতি তাজরি মিন হাততিহাল আনহার ... বাকিটা বই থেকে পড়ে নিবেন।

সম্পাদকের কথাতে  অনেকটাই স্পষ্ট যে তাঁর গড়ে ওঠা হুমায়ান আহমেদের বই পড়ে।  যুদিও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে হুমায়ন আহমেদের বই হয়তো দুনিয়াতে পড়ার জন্য অনেক মজার এবং সাথে যে অশ্লীলতা আছে তাও বলেছেন। 

অনেকের কাছে  অশ্লীলতা মনে হবে না যুদি না তারা প্রেম ভালোবাসা কে বিয়ে ছাড়া অবৈধ মনে না করে। বইয়ের সম্পাদক এটাকে অশ্লীল মনে করেছিলেন এবং এতে আখিরাতে জ্ঞান আছে বলে কিছুই পান নি। তাঁর চলার পথে নতুন দিগন্ত আনে বিভিন্ন ইসলামিক বই। 

কারাগারে সুবোধ বইটিতে তিনি হিমুকে অবলম্বন করেছেন। তবে তাকে ভ্রমের দাস বানাননি, বানিয়েছে আসমান ও জমিনের রবের আল্লাহ্‌র দাস। একজন আবদুল্লাহ। 

কারাগারে সুবোধ সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ 

প্রথম দিকে আমার দেখতে পাই সুবোধের কোনো একটা সম্পনের কথা বলছে এর পড়েই আসে রুস্তম সাথে যে কিনা তাদের মেছেতে থাকে, তার সাথে তার মেয়ের ব্যাপার নিয়ে কথা হল। এবং সাথে কিছুটা নবীজির সুন্নাত এর কথাও হল। 

এখানে মুলূত সুবোধ থেকে আব্বাদুল্লাহ হবার কথাই বলা হয়েছে। তার আছের বন্ধু রায়হান খুব বিপদে পড়ে এবং যার জন্য তার চাকরি যায় যায় অবস্থা। যুদিও সে আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে। আব্দুল্লাহ তাকে বলে তাদের গ্রামের নদীর সামনে দুটো টিনগুলে রাখতে যাতে তারা রাতে যেখানে গিয়ে ওঠানে মাদ্রাসার ওস্তাদের সুন্দর তেলায়ত শুনতে পারে এঁর রাতের দৃশ্য অবলোকন করতে পারে। 

সজল তার আরেক বন্ধু যেকিনা একটা বড় মন্ত্রী সাহেবের ছেলে যুদিও মন্ত্রী সাহেব আব্দুল্লাহকে এই জন্যই পছন্দ করে যে ওনি মনে করেন যে তার ছেলে যে এখন দাঁড়ি রেখেছেন এবং লম্বা জোব্বা পড়ে তার কারণ আব্দুল্লাহ এবং সে তাকে কোনো খারাপ কিছুর সাথে জড়িত। 

সজল এবং সুবোধ দুই জনেই রাযহানের বাড়িতে সেই পুকুর পারে যায় এবং যেয়ে দেখে যে সেখানে হুলুস্তুল কাণ্ড,  লোক জমা হয়ে গেছে অনেক। সবাই প্রশ্ন করছে এখানে এইটা কেনো করা হচ্ছে ইত্যাদি। যেইজন আসা তা কিন্তু হয়নি দেখা দেল আলেম সাহেব আজ মাদ্রাসাতে নেই তাই তার সুন্দর কণ্ঠও শুনা হল না। 

তাদের এই সব কাঁদের জন্য পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গেল এবং তার মন্ত্রী সাহেবের ছেলেকে একটা চড় মেরে দিল। যা কিয়ে ওছি সাহেব ভয়ে আছে। মন্ত্রী সাহেব এসে তার ছেলেকে নিয়ে গেল কিন্তু মন্ত্রী সাহেব বলে গেলেন এই ছেলের সমস্যা আছে বলল মন্ত্রী সাহেব তাই তাকে ধরে রাখা হলো।    

যুদিও পড়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে খালার বাসাতে যায় আর খালা বা খালু তাকে দেখতে পারেনা করান তার লেবাস এবং ইসলামিক, যেখানে তার খালাতো ভাই তাকে ভালোবাসে এবং সে তার মত হতে চায়।  

খালার বাসাতে এসে জানতে পারে তাকে পুলিশ খুজতেছে। সে জানতে পারে তাকে মন্ত্রী সাহেবের ছেলে বাংলাদেশ ছেড়ে বাহিরে চলে গেছে আর গেছে হয়তো যোগ দিতে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে এবং এর দায় দেওয়া হয়েছে সুবোধ/ আবুল্লাহকে। 

তাকে পুলিশ কারাগারে নিয়ে যায় মূলূত ওটা অন্য রকমের কারাগার যেটাতে বলা হয় গুম করা। সেখানে সে পরিচিত হয় এক শিষ সন্তাসির এবং ধীরে ধীরে সে পরিবর্ন হয়ে যায় সন্তাসি থেকে সে হয়ে উঠে একজন ভালো মানুষে …।। আরো অনেক কিছু আছে যা আপনি বইটা পড়েলেই বুঝতে পারেবন।     

চরিত্রঃ  

সুবোধ ওরফে আব্দুল্লাহ 

রায়হান আবদুল্লাহর / সুবোধর এর কাছের বন্ধু 

সজল মন্ত্রী সাহেবের ছেলে এবং আবদুল্লাহর বন্ধু 

মাজিদ একজন সন্তাসী 

সোলায়মান তাবলিগের সাথি এবং এক মুসজিদের ইমাম  

দাদাজান 

আইশা নায়িকা বলা যেতে পারে আবার নাও বলা যেতে পারে

কি ধরনের বইঃ 

বইটি হচ্ছে একটা ইসলামিক ধরনের বই, বইটার কয়েক পৃষ্ঠা পড়লেই বুঝতে পারবেন যে বইটার একটু ভিন্ন রকমের কারণ এইটা কোনো এলিমে বই নয়। যুদিও আপনি কিছুটা উপদেশ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

নিজের মতামতঃ    

কারাগারে সুবোধ বইটি আমার আছে ভালো লেগেছে। কিন্তু বইয়ের মধ্যে হুমু চরিত্রের আদিপ্ত বেশি মনে হয়েছে, যেটা আমার কাছে  অনেক বেশি বিরক্ত লেগেছে। মাঝে মাঝে আমার আছে মনে হয়েছে একজন মুসলমানের চরিত্র এমন হতে পারে না। 

মাঝে মাঝে আমি হারিয়ে গেয়েছিল্যাম্ব মানে বইটা আমাকে ধরে রাখতে পারেনি । একটা ছাড়া ছাড়া ভাব ছিল। হিমু চরিত্রের মত না হলে বা প্রভাবটা কম থাকলে বইটা পড়ে আরো বেশি মজা পাওয়া যেত। 

আপনি কি বইটি পড়বেনঃ আমি বলবো বইটি পড়ুন ভালো লাগবে। লেখার ধরনাটা হুমায়ন আহমেদ থেকে ধার করা কিন্তু বইটাতে শিখার আছে অনেক কিছু। আমি বলবো না আপনি আবদুল্লার মত হয়ে যান, তাহলে কিছুটা বিপদ হতে পারেন। নিচে কমেন্ট এ জানাতে ভুলবেন না কারাগারে সুবোধ বই রিভিউ কেমন লেগেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here